বিটকয়েন-মাইনিং-কি

বিটকয়েন মাইনিং কি এবং কিভাবে বিটকয়েন মাইনিং করা যায়

বিটকয়েন মাইনিং বললেই আমাদের চোখের সামনে ভেসে আসে অনেক বিটকয়েন। আমাদের আজকের এই পোস্টে আমরা তুলে ধরার চেষ্টা করব বিটকয়েন মাইনিং কি এবং কিভাবে আমরা বিটকয়েন মাইনিং করতে পারি।

বিটকয়েন মাইনিং কি

আমাদের কম বেশি সবারই ধারনা আছে বিটকয়েন কি। সংক্ষেপে বলতে গেলে বিটকয়েন হল একটি ক্রিপ্টোকারেন্সি যা সম্পূর্ণ বিকেন্দ্রিক; মানে যার কোন নিয়ন্ত্রক নেই। এটি খুব সহজে একস্থান থেকে অন্য স্থানে অর্থ বিনিময়ের মাধ্যম যা ২০০৯ সালে সাতশি নাকামতো নামে কেউ একজন কিংবা একদল লোক আবিষ্কার করেন। মাইনিং সম্পর্কে বলতে গেলে প্রথমেই আসবে বিটকয়েন কিভাবে সৃষ্টি হয়। মুলত বিটকয়েন সৃষ্টির মাধ্যমই হল বিটকয়েন মাইনিং।
আমরা সবাই জানি বিটকয়েন এর সাপ্লাই লিমিটেড মানে সর্বমোট বিটকয়েন হবে ২১০০০০০০, এর বেশি বিটকয়েন আর হবে না। বর্তমানে বিটকয়েন এর সাপ্লাই হচ্ছে ১৮,১৫৭,৮৭৫ যা প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ২১৪০ সাল নাগাদ চলতে থাকবে এবং উক্ত সালে বিটকয়েন এর সর্বশেষ সাপ্লাইটি মার্কেটে আসবে।
মুল কথায় ফেরা যাক, আমরা যখন বিটকয়েন এর লেনদেন করি মানে এক এড্রেস থেকে অন্য এড্রেস এ বিটকয়েন পাঠাই তা কনফার্মেশন হতে কিছু সময় নেয়। এই কনফার্মেশনগুলো মাইনাররা করে থাকে। মুলত মাইনাররা দেখে যে উক্ত লেনদেন সত্য কিনা এবং সেটা তারা ডিসেন্ট্রালাইজড লেজারে আপডেট দেয়। আপনি পাঠালে আপনার এড্রেস থেকে বিয়োগ দেয় এবং যাকে পাঠাচ্ছেন তার এড্রেসে পাঠাবেন তার এড্রেসে যোগ করে দেয়। এই ট্রানজেকশন এর সত্যতা যাচাই এবং তা লেজারে আপডেট দেয়ার যে প্রক্রিয়া তাই হল বিটকয়েন মাইনিং। এই কাজগুলো করার জন্য মাইনাররা দুই ধরনের রিওয়ার্ড পেয়ে থাকে।
১। ব্লক রিওয়ার্ড
২। ট্রানজেকশন ফি

ব্লক রিওয়ার্ড
আমরা প্রতিদিন যে ট্রানজেকশনগুলো করে থাকি কিংবা বিটকয়েন চেইনে যে ট্রাঞ্জেকশনগুলো হয়ে থাকে তার প্রতিটি ট্রানজেকশনই এক একটি ব্লকে অন্তর্ভুক্ত থাকে। গড়ে প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে ব্লক সৃষ্টি হয়। তার মানে প্রতিদিন ১৪৪ টি ব্লক তৈরী হয়ে থাকে। একটি ব্লকে সর্বোচ্চ ৪ মেগাবাইট ডাটা স্টোর করা যায়। মুল কথায় ফিরে আসি, প্রতিটি ব্লকের জন্য মাইনার রিওয়ার্ড পেয়ে থাকে। সব মাইনার পায়না। শুধুমাত্র যে মাইনার পরবর্তী ব্লক খুজে পায় সে বা তারাই উক্ত ব্লক রিওয়ার্ড পায়। শুরুতে ব্লক রিওওয়ার্ড ছিল ৫০ বিটিসি, মানে একটি ব্লক ক্রিয়েট করতে পারলেই ৫০ বিটিসি পাওয়া যেত। যা প্রতি চার বছর পর পর বা প্রতি ২১০০০০ ব্লক পর পর অর্ধেক হতে থাকে। নিচে আমি প্রতি চার বছরের জন্যে তথ্য দিলাম।
২০০৯-২০১২ (৫০ বিটকয়েন প্রতি ব্লক)
২০১২-২০১৬ (২৫ বিটকয়েন প্রতি ব্লক)
২০১৬-২০২০ মে (১২.৫ বিটকয়েন প্রতি ব্লক)
২০২০-২০২৩ (৬.২৫ বিটকয়েন প্রতি ব্লক)
এইভাবে প্রতি চার বছর পর পর তা কমতে থাকবে এবং ২১৪০ সালে গিয়ে শেষ হবে।

ট্রানজেকশন ফি
বিটকয়েন লেনদেন এর সময় আমরা একটা ট্রানজেকশন ফি দিয়ে থাকি। অবশ্য ওয়েব ওয়ালেট এর ক্ষেত্রে ইন্টারনাল লেনদেন এর জন্য ফি দিতে হয়না। যাই হোক, যখন আমরা বিটকয়েন অন চেইনে লেনদেন করে থাকি একটা ফি দিতে হয়। মাইনাররা এই ফি গুলো পেয়ে থাকে।
আশা করছি আপনারা বিটকয়েন মাইনিং কি এবং এর রিওয়ার্ড মডেলটা বুঝতে পেরেছেন।

কিভাবে বিটকয়েন মাইনিং করবো এবং এর খরচ কেমন

মাইনিং আপনি চাইলে আপনার পিসি দিয়েও করতে পারবেন কিন্তু সমস্যা হল পিসি দিয়ে করে কোন রিওয়ার্ড পাবেন না কারন এখন মাইনার এর সংখ্যা অনেক বেশি। ফলস্বরুপ, এখন জিপিইউ দিয়েও মাইনিং করা যায় না। এখন ASIC মাইনার দিয়েও একা মাইন করে কোন ফল পাবেন না, আপনাকে একটি মাইনিং পুলের সাহায্যে মাইন করতে হবে। মানে একসাথে অনেক মাইনার মিলে একটি ব্লক খোজার কাজ করতে হবে।
মাইনিং এর খরচ এর কথা বলতে গেলে খরচ তেমন বেশি না। আমাদের দেশে ইলেকট্রিসিটি যে দাম সে অনুযায়ী মাইনিং লাভজনক। কিন্তু কথা হল ইনিশিয়াল ইনভেস্টমেন্ট। মানে শুরুতে যে ইনভেস্ট আমাদের লাগবে সেটা। কিছু মাইনার আছে যা অনেক বেশি ইলেকট্রিসিটি কনজিউম করে আবার কিছু কম। যাই হোক, আমি একটি নির্দিষ্ট মাইনার দিয়ে দেখব আসলে লাভজনক কি না?

BITMAIN AntMiner S17e (64Th)

দাম- $১৬৩৬ বা ১৪০০০০ টাকা প্রায়।
শিপিং কস্ট- আমি শিউর বলতে পারছি না, তবে এইটা মোটামুটি ৫০ ডলারের মত লাগবে যা প্রায় ৪৫০০ টাকা সমপরিমাণ।
মোট খরচ- প্রায় ১৪৫০০০ টাকা।
এখন চলুন দেখে নেই এইটা থেকে প্রফিট করা যাবে কি না? যেহেতু আমাদের ইলেকট্রিসিটি দাম বাসাবাড়ি এবং ব্যবসায়ের জন্য আলাদা আলাদা, আমি দুইটাতেই দেখাবো।
বাসাবাড়ি
বাসাবাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম ৬টাকা, আমি ধরে নিচ্ছি ৭ টাকা যেহেতু যখন কনজিউম বাড়ে তখন দাম বেশি হয়। একটি BITMAIN AntMiner S17e (64Th) এর জন্য খরচ এবং লাভ নিচে তুলে ধরা হল।
টোটাল ইলেকট্রিসিটি কনজিউম- প্রায় ১৫ হাজার টাকার মত (প্রতি মাসে)
বিটিসি মাইনিং রিওয়ার্ড পাবেন- ০.০৩৫ বিটিসি (প্রতি মাসে)
বর্তমান দাম অনুযায়ী বাংলাদেশী টাকায় পাবেন- ২৪০০০ টাকার মত (দাম বাড়লে বেশি কমলে তো কথাই নেই আর :P)
তাহলে আপনার লাভ হচ্ছে ৯০০০ টাকার মত।
ব্যবসায়িক
বাসাবাড়ির ক্ষেত্রে প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুতের দাম ৯ টাকার মত, আমি ধরে নিচ্ছি ১০ টাকা যেহেতু যখন কনজিউম বাড়ে তখন দাম বেশি হয়। একটি BITMAIN AntMiner S17e (64Th) এর জন্য খরচ এবং লাভ নিচে তুলে ধরা হল।
টোটাল ইলেকট্রিসিটি কনজিউম- প্রায় ২১০০০ হাজার টাকার মত (প্রতি মাসে)
বিটিসি মাইনিং রিওয়ার্ড পাবেন- ০.০৩৫ বিটিসি (প্রতি মাসে)
বর্তমান দাম অনুযায়ী বাংলাদেশী টাকায় পাবেন- ২৪০০০ টাকার মত
তাহলে আপনার লাভ হচ্ছে ৩০০০ টাকার মত।

এখন আপনারা যদি চান একের অধিক মাইনার সেট আপ করতে পারেন। সেট আপ করাতে কোন ঝামেলা নাই। Nicehash এ গিয়ে আপনার মাইনার কানেক্ট করুন এবং আপনার বিটকয়েন ওয়ালেট কানেক্ট করুন। আর তেমন কোন কাজ নেই। যাই হোক, আমি বিটকয়েন মাইনিং কিভাবে করবেন তার একটি টিউটরিয়াল শীঘ্রই লিখব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *