কিভাবে বিটকয়েন একাউন্ট খুলবেন

কিভাবে বিটকয়েন একাউন্ট খুলবেন । বিটকয়েন ওয়ালেট বাংলা টিউটোরিয়াল

বিটকয়েন বর্তমানে খুব কমন একটি নাম। আজ আমি আপনাদের দেখাবো ইলেকট্রামের সাহায্যে কিভাবে বিটকয়েন একাউন্ট খুলবেন। আসলে আমি এইখানে ভুল বলেছি। ইচ্ছে করেই বললাম। বিটকয়েনের কোন একাউন্ট হয়না। বিটকয়েন এর ক্ষেত্রে এইটাকে বিটকয়েন ওয়ালেট বলা হয়।
বিটকয়েন ওয়ালেট অনেক ধরনের হয়। যেমন- হট ওয়ালেট, কোল্ড ওয়ালেট। এইগুলোর মধ্যেও আবার অনেক ভাগ রয়েছে। আমি একাউন্ট শব্দটা ইচ্ছে করেই ভুল করেছি কারন আমি আজকে বিটকয়েন ওয়ালেট এর সব কিছু এইখানে তুলে ধরার চেষ্টা করব এবং পাশাপাশি আমাদের মধ্যে যারা কিছু ভুল ধারনা নিয়ে আছি তাদের ভুলের অবসান ঘটাবো। তাহলে আগে জেনে নেই বিভিন্ন ধরনের বিটকয়েন ওয়ালেট সম্পর্কে।
দুই ধরনের বিটকয়েন ওয়ালেট হয় প্রধানত-
১। হট ওয়ালেট
২। কোল্ড ওয়ালেট

হট ওয়ালেট

যেসব ওয়ালেট অনলাইনে বা ইন্টারনেট কানেকশন এর সাথে কোন একভাবে সম্পর্কিত সেটাই হট ওয়ালেট। যেমন- ইলেকট্রাম ওয়ালেট কিংবা বিটকয়েন কোর ওয়ালেট। বিটকয়েন কোর হল সাতশি নাকামতো বা বিটকয়েন এর আবিষ্কারক দ্বারা রিলিজ করা প্রথম ওয়ালেট। যাই হোক, যেহেতু এইসব ওয়ালেট ইন্টারনেট কানেকশন এর সাথে সম্পর্কিত, এইটাকে হট ওয়ালেট বলা হয়। হট ওয়ালেট আবার বিভিন্ন রকম হতে পারে।
১। সফটওয়্যার ওয়ালেট- সফটওয়্যার ওয়ালেট নাম শুনেই বেশ বোঝা যাচ্ছে এইটি কি হতে পারে। একটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে যদি একটি ওয়ালেট পরিচালিত হ্য সেটাকে নরমালী আমরা সফটওয়্যার ওয়ালেট বলতে পারি। এইগুলোর মধ্যেও আবার ভাগ থাকে। যেমন- লাইট ওয়ালেট এবং ফুল ক্লায়েন্ট ওয়ালেট। লাইট ওয়ালেট হল ব্লকচেইন ডাউনলড করা ছাড়া একটি ওয়ালেট ব্যবহার করা, পক্ষান্তরে, ফুল ক্লায়েন্ট ওয়ালেট হল যে ওয়ালেট ব্যবহার করতে হলে একটি কয়েন এর পুরো ট্রানজেকশন হিস্টরি ডাউনলোড করতে হয়।
২। ওয়েব ওয়ালেট- ওয়েব সাইটের মাধ্যমে যত ওয়ালেট পরিচালিত হয় সেগুলো হল ওয়েব ওয়ালেট এবং বিটকয়েন ওয়ালেট এর মধ্যে এইটা হল সবচেয়ে রিস্কি ওয়ালেট। ওয়েব ওয়ালেট এর উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হতে পারে- কয়েনবেজ কিংবা ব্লকচেইন ওয়ালেট যা সচরাচর আমাদের অনেকেই ব্যবহার করে থাকি। একটি ব্যাপার খেয়াল করুন। এই একাউন্ট খুলতে আমাদের ইমেইল একাউন্ট দিতে হয় কিন্তু বিটকয়েন ওয়ালেট এ আপনার কোন পরিচয় বা কোন তথ্য দেয়া লাগে না। এইজন্যেই আমি ইচ্ছে করে ভুল লিখেছি। আপনি যেহেতু ইমেইল দিয়ে একাউন্ট খুলতেছেন, তার মানে আপনি বিটকয়েন একাউন্ট খুলতেছেন কয়েনবেজে এবং কয়েনবেজকে বলতেছেন আপনার বিটকয়েন হোল্ড করার জন্য। কিন্তু অন্য সফটওয়্যার ওয়ালেট কিংবা কোল্ড ওয়ালেটে আপনার বিটকয়েন আপনি নিজেই হোল্ড করতেছেন।
যাই হোক, এই ওয়েব ওয়ালেটও আবার দুই ধরনের হয়- কাস্টডিয়াল এবং নন-কাস্টডিয়াল। কয়েনবেজ ওয়ালেট হল কাস্টডিয়াল ওয়ালেট কারন এইটি আপনাকে ব্যাংক যেমন সার্ভিস দেয়, তেমন সার্ভিসই দিচ্ছে। ব্যাংক যেমন চাইলে সন্দেহজনকভাবে আপনার চেক আটকিয়ে রাখতে পারে, কয়েনবেজ ও পারবে।
পক্ষান্তরে, নন-কাস্টডিয়াল ওয়ালেট হল অনলাইন ওয়ালেট কিন্তু উক্ত ওয়ালেট আপনাকে প্রাইভেট কি দেয় যাতে আপনি চাইলে সে ওয়ালেট অন্য সফটওয়্যার ওয়ালেট কিংবা কোল্ড ওয়ালেট থেকে ব্যবহার করতে পারেন। ব্লকচেইন ওয়ালেট হল তেমনি একটি ওয়ালেট।

কোল্ড ওয়ালেট

যেসব ওয়ালেট আপনি অফলাইনে ক্রিয়েট করতে পারবেন সেগুলোই হল কোল্ড ওয়ালেট। এদের মধ্যে দুই ধরনের ওয়ালেট হয়। পেপার ওয়ালেট এবং হার্ডওয়্যার ওয়ালেট। পেপার ওয়ালেট এর মানে হল আপনি একটি এড্রেস এবং এর প্রাইভেট কি জেনারেট করে সেটাতে বিটকয়েন হল্ড করা। পক্ষান্তরে হার্ডওয়্যার ওয়ালেট হল একটি নির্দিষ্ট হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে আপনার ওয়ালেট ক্রিয়েট করা এবং তা অফলাইনে সংরক্ষণ করা। যেমন- লেজার ন্যানো, কিপকি, ট্রেজর।

কিভাবে বিটকয়েন একাউন্ট খুলবেন

ওয়ালেট নির্বাচনের ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই খুব সচেতন হতে হবে। ওয়েব ওয়ালেট হল সবচেয়ে বেশি রিস্কি। অন্যদিকে কোল্ড ওয়ালেট হল সবচেয়ে নিরাপদ। যাই হোক, আমি সফটওয়্যার ওয়ালেট ইলেকট্রাম এর মাধ্যমে কিভাবে বিটকয়েন ওয়ালেট খুলতে হয় তা দেখাবো।
১। ইলেকট্রাম ওয়ালেট ডাউনলোড করুন। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন আপনি ইলেকট্রাম এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করছেন। অফিসিয়াল ওয়েবসাইট- www.electrum.org মোবাইল থেকে হলে প্লে স্টোরে গিয়ে ডাউনলোড করুন।
২। এখন আপনার সফটওয়্যারটি ইনস্টল করে নিন। তারপর ওয়ালেট ওপেন করুন।
নিচের পেজটি আসবে।


৩। Next এ ক্লিক করুন। নিচের পেজটি আসবে।


৪। Standard Wallet সিলেক্ট করে Next এ ক্লিক করুন। নিচের পেজটি আসবে।


৫। Create a new seed সিলেক্ট করে Next এ ক্লিক করুন। নিচের পেজটি আসবে।


৬। Segwit অথবা Legacy যে কোন একটাতে ক্লিক করে Next এ ক্লিক করুন। প্রসঙ্গগত, Segwit এ ক্লিক করলে আপনার এড্রেস bc1 এবং Legacy তে ক্লিক করলে করলে আপনার এড্রেস 1 দিয়ে শুরু হবে। Next এ ক্লিক করলে নিচের পেজটি আসবে।


৭। এই হল আপনার সিড কি বা আপনার ওয়ালেট এর সব, এইটা যেভাবে লিখা আছে সেভাবে আপনিও যত্ন করে লিখে রাখেন, পরবর্তীতে এই সিড কি দিয়ে আপনি যে কোন সময় আপনার ওয়ালেট এ এক্সেস করতে পারবেন। এইটা গপন রাখবেন অবশ্যই। অনলাইনে স্টোর করবেন না। কাগজে লিখে কোথাও বাসায় রেখে দিন। তারপর, Next এ ক্লিক করুন। Next এ ক্লিক করলে আপনার সিড কি টা লিখতে বলবে যেটা আপনি একটু আগে লিখে রেখেছেন। আপনার সিড কি দিয়ে Next এ ক্লিক করুন। হয়ে গেল আপনার ওয়ালেট। আপনি নিচের পেজটির মত একটা ইন্টারপেজ দেখতে পাবেন।

এইখানে আপনার সব ট্রানজেকশনের রেকর্ড থাকবে। যেহেতু আপনার ওয়ালেট এখনো নতুন, এইটা খালি থাকবে। Addresses এ ক্লিক করে আপনার রিসিভ এড্রেসগুলো ব্যবহার করতে পারেন।

বিটকয়েন ওয়ালেট খোলা খুবই সহজ যদি আপনি ব্যাপারগুলো একবার মাথায় ঢুকিয়ে নিতে পারেন। কিভাবে বিটকয়েন একাউন্ট খুলবেন ভিডিও টিউটোরিয়াল দেখতে পারেন এইখানে- Bitcoin wallet Bangla Tutorial

2 comments

    1. অনলাইনে ইনকাম করার জন্যে অনেকগুলো পথ রয়েছে। বেসিক্যালি ফ্রিল্যান্সিং করাটাই ভালো কারন এইটা ক্যারিয়ার। আপনার প্যাশন দেখে যে কোন একটি কাজ শিখুন। তারপর শুরু করে দিন।
      আগামী সপ্তাহে আমি একটি আর্টিকেল পাবলিশ করার চেষ্টা করব।
      ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *