ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং

ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং কি? পর্ব-১

এই আর্টিকেলে আমি ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং এর বিভিন্ন প্রাথমিক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং সম্পর্কে আপনাদের একটা সাধারণ ধারনা দেয়ার চেষ্টা করব। পরবর্তীতে আমি আরো এডভান্স লেভেলের গাইডলাইন নিয়ে লিখব পর্যায়ক্রমে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং কি?

লাভের উদ্দেশ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সি ক্রয় এবং বিক্রয়কেই আমরা সাধারনভাবে ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং বলে থাকি। এইখানে আমি ক্রিপ্টকারেন্সি ট্রেডিং এর অতি সাধারন কিছু দিক নিয়ে কথা বলব। যারা স্টক একচেঞ্জের মধ্যে শেয়ার ক্রয় বিক্রয় করে থাকেন, তারা এই টার্মগুলোর সাথে মোটামুটি পরিচিত।
যে কোন ক্রিপ্তোকারেন্সির দাম সাধারনত নিচের চারটি বিষয়ের উপর নির্ভর করে থাকে।
১। সাপ্লাই এবং ডিমান্ড
২। কার্যকারিতা
৩। মার্কেট সেন্টিমেন্ট
৪। মাইনিং ডিফিকাল্টি

সাপ্লাই এবং ডিমান্ড

সাপ্লাই এবং ডিমান্ডকে আমরা সহজ ভাষায় বলতে পারি যোগান এবং চাহিদা। সাপ্লাই বেশি হলে দাম কমবে আবার ডিমান্ড বেশি হলে দাম বাড়বে। যেমন কিছুদিন আগে আমাদের দেশে পেয়াজের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল, এর পিছনে মুল কারন হল সাপ্লাই কম থাকা এবং ডিমান্ড বেশি থাকা।
ক্রিপ্টোকারেন্সির ক্ষেত্রেও একই। বিটকয়েন এর বর্তমান সাপ্লাই ১৮১৭৪৪৩৭ যাকে সার্কুলেটিং সাপ্লাই বলা হয়ে থাকে। এটি সবসময় বাড়তে থাকবে যতদিন না পর্যন্ত এর টোটাল সাপ্লাই শেষ হয়। এখন বিটকয়েন এর ডিমান্ডের কথা যদি চিন্তা করেন তাহলে দেখবেন অনেক। কারন এটি অনেক জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে। যার কারনে বিটকয়েনের দাম অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

কার্যকারিতা

কার্যকারিতা বলতে একটি কয়েন এর ব্যবহারকে বোঝায়। যেমন একটু আগে বলেছিলাম বিটকয়েন অনেক কাজে ব্যবহার করা যায় কিন্তু অনেক কয়েন রয়েছে যেগুলো কোথাও ব্যবহার হয়না। যদি কোন কয়েন কোথাও ব্যবহারই না হয় তাহলে সেই কয়েনের ডিমান্ড থাকবে না এইটা স্বাভাবিক। একটি ক্রিপ্টকারেন্সির যত বেশি ব্যবহার রয়েছে তার দাম তত বাড়তে থাকবে। যেমন আমরা যদি ইথেরিয়াম এর কথা ধরে নেই, এইটার ICO দাম ছিল $০.৩১ যা ২০১৮ সালে ১৫০০ ডলারের মত উঠেছিল। কারন ইথেরিয়াল এর ব্যবহার রয়েছে অনেক যার কারনে এর ডিমান্ডও ছিল।

মার্কেট সেন্টিমেন্ট

এইটা কয়েনের দামের পরিবর্তনে অনেক এফেক্ট ফেলে। মার্কেট সেন্টিমেন্ট বলতে মার্কেটের প্রতি বেশিরভাগ মানুষের চিন্তাকে বোঝানো হয়েছে। যেমন- কোন দেশ যদি ক্রিপ্টোকারেন্সিকে ব্যান করে দেয়, সে ক্ষেত্রে ওইদিন কয়েনের দাম কমবে এইটা স্বাভাবিক। এম.টি.গক্স নামে একটি একচেঞ্জ হ্যাক হওয়ার কারনে বিটকয়েন এর দাম অনেক কমে গিয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদের উপর ভিত্তি করে ক্রিপ্টোকারেন্সির দাম উঠানামা করতে পারে। কারন মানুষ বিভিন্ন ঘটনার উপর ভিত্তি করে একটি কয়েন ক্রয় বা বিক্রয় করতে পারে যা উক্ত কয়েনের দামের উপর অনেক প্রভাব ফেলে।

মাইনিং ডিফিকাল্টি

মাইনিং ডিফিকাল্টির সাথে দামের রয়েছে অনেক সম্পর্ক। যে কয়েন মাইন করা যত সহজ, সে কয়েনের দাম তত কমার সম্ভাবনা রয়েছে। বিটকয়েন এর কথা যদি আমরা চিন্তা করি, এই ক্ষেত্রে বিটকয়েন এর মাইনিং ডিফিকাল্টি অনেক বেশি কারন অনেক মাইনার বিটকয়েন মাইন করতেছে। ফলস্বরুপ, বিটকয়েন এর দাম কমার চাইতে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। পক্ষান্তরে, যে সব কয়েন মাইন করা সহজ, সেগুলোর দাম কমতে থাকাটা স্বাভাবিক।

ক্রিপ্টোকারেন্সি ট্রেডিং এর এডভান্স ও অন্যান্য দিক নিয়ে নতুন আর্টিকেল আরো থাকবে পরবর্তীতে। এই টিউটোরিয়াল হবে বাংলায় ট্রেডিং এর সম্পুর্ন গাইডলাইন। নতুন আপডেট পেতে আমাদের সাথেই থাকুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *