কিভাবে টাকা আয় করা যায়? ক্রিপ্টোকারেন্সি স্টেকিং করে টাকা আয় করুন

স্টেকিং থেকে টাকা আয় করা একপ্রকার সহজ ব্যাপার। কোন ঝামেলা ছাড়াই কিভাবে টাকা আয় করা যায় তা জানতে হলে আমাদের আগে জেনে নিতে হবে স্টেকিং কি এবং স্টেকিং কিভাবে কাজ করে।

স্টেকিং কি জানতে হলে আমাদের প্রথমেই জানতে হবে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন কিভাবে হয়। আমরা জানি যে ক্রিপ্টোকারেন্সি হল ব্লকচেইন ভিত্তিক এবং ডিসেন্ট্রালাইজড। ডিসেন্ট্রালাইজড মানে হল এইখানে লেনদেনের ক্ষেত্রে কিংবা এই কয়েনগুলো নির্দিষ্ট কেউ নিয়ন্ত্রন করে না। বরং সারা পৃথিবীর অনেক লোক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যার কারনে এইখানে চাইলেই কেউ একটা লেনদেন ভুল তথ্য দিয়ে প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।

যেমন- আমি যদি আপনাকে ১ বিটকয়েন পাঠাই, আমি সেখানে মিথ্যা বলার কোন সুযোগ থাকবে না। কারন এই রেকর্ড মাইনারদের দ্বারা ব্লকচেইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন আপনি বলতে পারেন আপনি যদি কোন মাইনারের দ্বারা তথ্য পরিবর্তন করতে চান? তা আসলে সম্ভব না। আমি যে আপনাকে ১ বিটকয়েন পাঠালাম সেটা যদি কোন মাইনার অস্বীকার করে, মানে ভেরিফাই করতে না চায়, তাহলেও কোন সমস্যা হবে না কারন পৃথিবীর আরো অনেক মাইনার আছে যারা ট্রানজেকশনের সত্যতা যাচাই করবে। 

মাইনারদের কাজ হল একটি ট্রানজেকশনের সত্যতা যাচাই করে তা ডিসেন্ট্রালাইজড লেজারে আপদেট দেয়া। এখন এই একই প্রক্রিয়াওটি দুইভাবে করা যায়। একটি পদ্ধির নাম হল প্রফ-অব-ওয়ার্ক (POW) এবং প্রুফ-অব-স্টেকিং (POS), যেহেতু আমাদের আর্টিকেল মুলত স্টেকিং কি এবং কিভাবে স্টেকিং থেকে টাকা আয় করা যায়, এমি এই টার্মগুলোর বিস্তারিত যাচ্ছি না, সেগুলো অন্য আর্টিকেলে শেয়ার করব। সংক্ষেপে বলতে গেলে প্রফ-অব-ওয়ার্ক মেথডে মাইনাররা ট্রান্সজেকশন চেক করে, সত্যতা যাচাই করে এবং অবশেষে তা ব্লকে এন্ট্রি করে।

প্রুফ-অব-স্টেকিং ও একি কাজটাই করে থাকে, শুধু তফাত হল এইখানে আপনাকে অনেকগুলো কাজ করতে হবেনা, অনেক ক্ষমতাধর মাইনিং সেট-আপ লাগবে না কিংবা অনেক বিদ্যুত খরচ ও লাগবে না। স্টেকিং এর মাধ্যমেও সেইম কাজটাই করা হয়। আশা করছি স্টেকিং কি মোটামুটি একটা ধারনা পেয়েছেন।

কিভাবে টাকা আয় করা যায়?

প্রথমেই আপনাকে জেনে নিতে হবে আপনার কি কি লাগবে।
১। একটা মোটামুটি মানের পিসি। একবারে লো কনফিগারেশনের হলেও হবেনা, আবার খুব যে হাই কনফিগারেশনের পিসি লাগবে তা কিন্তু নয়।
২। ১০ হাজার টাকার মত নগদ ইনভেস্ট।
৩। অবশ্যই সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট কানেকশন।

১০ হাজার টাকা দিয়ে সত্যি বলতে খুব একটা যে লাভ করতে পারবেন তা কিন্তু নয়। মোটামুটি মাসে ১/২ হাজার টাকা লাভ হতে পারে। আপনাকে প্রথমেই বলে রাখি, আপনার ইনভেস্ট যত বেশি লাভের পরিমানও তত বেশি। তবে একদম যে রিস্ক নেই তা কিন্তু না, দাম কমে গেলে লস ও হতে পারে।

প্রথমেই আপনার পিসি সেট-আপ করে একটু রিসার্স করে নিতে হবে কোন কয়েন স্টেকিং করবেন। মনে রাখবেন আজেবাজে কয়েন স্টেকিং করা খুবই রিস্কি ব্যাপার। যাই হোক, এই নিয়ে আমি পরবর্তীতে আরেকটা আর্টিকেল দেব কিভাবে কয়েন নির্বাচণ করবেন। তারপর উক্ত কয়েনের অফিসিয়াল ওয়ালেট ডাউনলোড করে নেবেন আপনার পিসিতে। ভালো একটা একচেঞ্জ দেখে যেখানে উক্ত কয়েন লেনদেন হয় সেখান থেকে আসতে আসতে ভালো পরিমান কয়েন কিনে নেবেন।

এইক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে যে আপনার কয়েন বেশি হলে ইনকাম ও বেশি। সেজন্যে আগে দেখে নিতে হবে আপনার নির্বাচণ করা কয়েনের ডিফিকাল্টি কেমন এবং কত কয়েন স্টেকিং করলে কত রিওয়ার্ড পাবেন। এইসব আপনি কয়েনের ওয়েবসাইটে পাবেন, যদি দরকার হয় এইখানেও কমেন্ট করতে পারেন। কয়েন কেনার পর সেতা আপনার পিসি ওয়ালেটে নিয়ে আসেন, স্টেকিং অপশন অন করুন, পিসি সার্বক্ষনিক অনলাইনের রাখুন, ব্যাস। এইটাই আপনার কাজ। বাকী কাজ হল মাঝে মধ্যে দেখা আপনার ওয়ালেট অনলাইনে আছে কিনা এবং কাজ করছে কিনা। আপনি অটোমেটিক রিওয়ার্দ পাবেন, আনুপাতিক হারে, মানে আপনার যা কয়েন আছে তার উপর। অবশ্যই বিভিন্ন কয়েনের ক্ষেত্রে সর্বনিন্ম কত কয়েন হলে রিওয়ার্ড পাবেন তা ডিফিকাল্টির উপর নির্ভর করে।

পিসি না থাকলে কি করবেন?
অনেকেরই পিসি না থাকতে পারে বাসায়। একসাথে এত টাকা ইনভেস্ট করাও সম্ভব না। তবে সে ক্ষেত্রেও আছে সমাধান। বিভিন্ন নামী এক্সচেঞ্জগুলো বর্তমানে তাদের এক্সচেঞ্জে স্টেকিং অফার দিয়ে থাকে, মানে আপনি নির্দিষ্ট পরিমান কয়েন ওদের এক্সচেঞ্জে হোল্ড করলে মাসিক একটা নির্দিষ্ট পরিমান রিওয়ার্ড পাবেন। যদিও এক্সচেঞ্জে কয়েন রাখা অনেক অনিরাপদ, তবে বাইন্যান্স এর মত এক্সচেঞ্জে রাখা যেতেই পারে। সে ক্ষেত্রে বাইন্যান্সে একটা একাউন্ট খুলে নিন এবং তাদের স্টেকিং কয়েনগুল দেখে যে কোন একটা বিনিয়োগ করে মোটামুটি একটা ভালো পরিমান টাকা আয় করা যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *